Shonglap (সংলাপ) হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এআই কল সেন্টার সমাধান। এটি এমনভাবে পরিকল্পিত, যেন একজন বাংলাদেশি এজেন্টের মতোই স্বাভাবিক বাংলায় কথা বলে কোম্পানির নিজস্ব তথ্য দেখে গ্রাহকের কলের জবাব দিতে পারে। সরকারি হেল্পলাইন থেকে বেসরকারি যেকোনো খাতে, দিন-রাত, নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী সেবাই আমাদের লক্ষ্য।
প্রতিটি খাতেই কাস্টমার সাপোর্ট লাগে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ প্রতিদিন প্রায় ২৪ হাজার কল আসে, আর বেসরকারি খাতে টেলিকম, ব্যাংক, ই-কমার্স, স্বাস্থ্য, ট্রাভেল, কুরিয়ার ও আইএসপি মিলিয়ে সংখ্যাটা কল্পনার চেয়ে বড়। এই কলের বেশিরভাগই পুনরাবৃত্তিমূলক, অর্থাৎ এআই দিয়ে সমাধানযোগ্য।
বাংলাদেশের কল সেন্টারে প্রতি বছর কল হ্যান্ডেল হয়
মানুষ কল সেন্টার ও বিপিও খাতে কর্মরত
কল প্রতিদিন আসে জাতীয় হেল্পলাইন ৯৯৯-এ
বাংলাদেশের বিপিও বাজার ২০২৯ সালের মধ্যে
তুলনার জন্য, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বিপিও বাজারের আকার প্রায় ৩২৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ এই বাজারের ক্ষুদ্র অংশ হলেও দ্রুত বাড়ছে, এবং বাংলা ভাষায় কাজ করা কার্যকর এআই-এর অভাবই এখানে সবচেয়ে বড় সুযোগ।
মানুষ-নির্ভর কল সেন্টার বাংলাদেশে বহু বছর ধরে চলছে, কিন্তু তিনটি কাঠামোগত সমস্যা কখনো পুরোপুরি মেটেনি।
স্পষ্ট ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতার মানুষ পাওয়া কঠিন, আর প্রশিক্ষণের পেছনে সময় ও টাকা দুটোই যায়। একজন দক্ষ এজেন্ট চাকরি ছাড়লে পুরো প্রশিক্ষণ নতুন করে শুরু করতে হয়।
কল বাড়লে লোক বাড়াতে হয়। পিক আওয়ারে লাইনে অপেক্ষা তৈরি হয়, আর রাত বা ছুটির দিনে এজেন্ট পাওয়া যায় না। ২৪/৭ সেবা মানে তিন শিফটের খরচ।
চাপ, ক্লান্তি ও ব্যক্তিগত বিবেচনা মানুষের উত্তরকে প্রভাবিত করে। একই প্রশ্নে দুজন এজেন্ট দুই রকম উত্তর দিলে গ্রাহকের আস্থা কমে যায়।
অনেক প্রতিষ্ঠান আজ কাস্টমার সার্ভিস বিপিও কোম্পানির মাধ্যমে চালায়। আমরা সেই কাজটিই এআই দিয়ে করছি।
ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে কোম্পানির নাম, খাত ও যোগাযোগের মৌলিক তথ্য দিলেই শুরু করা যাবে। কোনো ইনস্টলেশন বা জটিল হার্ডওয়্যার লাগবে না, কয়েক মিনিটেই প্রোফাইল তৈরি হবে।
এগুলো সত্যিকারের কল সেন্টারে নিয়মিত আসা প্রশ্ন। কোনো মানব এজেন্টের সাহায্য ছাড়াই এআই রিয়েল-টাইমে সমাধান করতে পারে। খাত বেছে নিয়ে দেখুন।
আমাদের অনুসন্ধানে একজন এজেন্ট দিনে গড়ে ৪০-৫০টি কল ধরেন এবং প্রায় ২৫০ মিনিট কথা বলেন। মাসে ২১ কর্মদিবসে তার সম্পূর্ণ খরচ (বেতন, অফিস, ডেস্ক, বিদ্যুৎ, পিসি, হেডসেট ও বোনাস) প্রায় ৩৫,০০০ টাকা।
৳৩৫,০০০ ÷ (২১ দিন × ২৫০ মিনিট) = ৳৬.৬৬ প্রতি মিনিট
ElevenLabs v4, GPT-Realtime ও Gemini-র মতো প্ল্যাটফর্মের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এরা শুধু স্পিচ জেনারেশন বা API দেয়। কোম্পানির ডেটা, হ্যান্ডঅফ ও ড্যাশবোর্ড মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ কল সেন্টার আর্কিটেকচার দেয় না।
আর বাংলায় বাকিদের কণ্ঠ তুলনামূলক রোবোটিক / সংবাদ পাঠের ধাচে শোনায়।
আমরা সংগ্রহ করেছি ২৫০ ঘণ্টারও বেশি কথোপকথনভিত্তিক, কল সেন্টার ধাঁচের বাংলা রেকর্ডিং, যা ঠিক যে ধরনের কথা এআই-কে ফোনে বলতে হবে সেই ধরনের। এর মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে ৫০ ঘণ্টার ডেটা।
বই পড়া বা সংবাদপাঠের মতো কৃত্রিম স্ক্রিপ্ট নয়—এগুলো সরাসরি বাস্তব গ্রাহক সেবা কলের ধাঁচে ধারণ করা কথোপকথন। গ্রাহকের স্বাভাবিক জড়তা, কথার মাঝে থেমে যাওয়া, আঞ্চলিক টান ও ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ এতে স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত।
সংগৃহীত অডিও থেকে ইতোমধ্যে ৫০ ঘণ্টার ডেটা অডিও ক্লিনিং, টাইম-স্ট্যাম্পিং, নয়েজ ফিল্টারিং ও সঠিক ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মডেল ট্রেইন করা হয়েছে। যদিও দক্ষ লোকবলের অভাবে এই কাজটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, তাই মডেলের কণ্ঠ এখনও অনেকসময় আশানুরূপ হয় না। অবশিষ্ট ডেটা প্রক্রিয়াকরণও চলমান।
ফরচুন ৫০০-এর ৬৭% কোম্পানি প্রোডাকশনে ভয়েস এআই চালায়। জাপান, সিঙ্গাপুর, ভারত (PM-KISAN), যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র (California 311) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরকারি পর্যায়েও এটি কাজ করছে। বাংলাদেশ এই ধারার বাইরে থাকার কোনো কারণ নেই।
ট্রান্সফার ৪৯% কম, ৩ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয়
৬০% কল এআই-ই সমাধান করেছে
৫০-৬০ সেকেন্ড দ্রুত, ৭৫%+ ইন্টেন্ট শনাক্তকরণ
Erica: ভয়েস, ওয়েব ও মোবাইলজুড়ে এআই
এক বছরের মধ্যে আমাদের লক্ষ্য লাইভ ডেমো উন্মোচন, দেশের প্রধান প্রধান আঞ্চলিক ভাষার সাপোর্ট, ১০০টির বেশি ভয়েস এবং কাস্টমার সার্ভিসের জন্য কাস্টম LLM তৈরি করা।
www.shonglap.io-তে সবাই সরাসরি কথোপকথন পরীক্ষা করতে পারবেন।
বরিশাল, নোয়াখালী, রাজশাহী, ময়মনসিংহ এবং খুলনা অঞ্চলের উপভাষার পূর্ণ সাপোর্ট নিয়ে কাজ করা হবে। সিলেটি ও চাটগাঁইয়া ভাষার সাপোর্টকে আরও উন্নত করা হবে।
বিভিন্ন বয়স ও ধরনের কণ্ঠ তৈরি করে প্রকাশ করা হবে, সাথে থাকবে লাইভ পাবলিক টেস্টিং।
বাংলাদেশি কাস্টমার সার্ভিসের শব্দভান্ডার ও কথার ধরনে টিউন করা ভাষা মডেল।
২৫০ ঘণ্টার রেকর্ডিং সংগ্রহ হলেও তা পরিষ্কার ও প্রক্রিয়াকরণ অত্যন্ত ধীর কাজ, তহবিল পেলে তা দ্রুত শেষ হবে। বাস্তব ফোন লাইনে যুক্ত হতে বিটিআরসির মাধ্যমে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অবকাঠামো এবং সরকারি কাজ পেতে আইনি অনুমোদন জরুরি। আর সারাদেশের কলকারীদের কথা ভালোভাবে বোঝার জন্য সারাদেশে অস্থায়ী অফিস ও রেকর্ড স্টুডিও দরকার।
২০২৯ সালের মধ্যে কোম্পানির মূল্যায়ন ৫০ কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য। বিনিয়োগকারীরা ওয়াই-কম্বিনেটর (Y Combinator) ধাঁচের মডেলে শেয়ার পাবেন।
প্রতি বছর বাংলাদেশে যে ১২৫ কোটি কাস্টমার সাপোর্ট কল হয়, তা স্বয়ংক্রিয় করার পথে আমরা প্রথম পদক্ষেপ নিচ্ছি।
যেকোনো প্রশ্ন বা পার্টনারশিপের জন্য সরাসরি ইমেইল করতে পারেন।